শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

Notice :
Welcome To Our Website...
News Headline :
শতবর্ষে ফেনী সরকারী কলেজ খাগড়াছড়ি এর কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এর ফেনী আগমন সোনাগাজী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মহি উদ্দিনের অবসর জনিত বিদায়ী অনুষ্ঠান ফুলগাজীতে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের নামে ইউএনও অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা উৎকোচ আদায় ফুলগাজীতে স্কুল পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদুল হাসান ফেনীতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে কিনা সড়কে তদারকি অভিযান ফেনীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ ফেনীতে ১৫শ’ লিটার চোরাই ডিজেল সহ ৩ জন আটক ফেনীতে শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে যুবলীগের মাসব্যাপী কর্মসূচি ছাগলনাইয়ায় প্রমোটিং পিস এন্ড জাস্টিসের আইনগত সহায়তা কর্মশালা
শিক্ষকদের ভ্যাকসিন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে খুলে দেয়া হোক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

শিক্ষকদের ভ্যাকসিন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে খুলে দেয়া হোক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

 

 

আলমগীর হোসেন রিপন:-বিশ্বব্যাপী করোনার ভয়াল আক্রমন ২শতাধিক দেশের কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য মানুষের প্রাণ। দেশকে সেই ভয়াল আক্রমন থেকে রক্ষা করতে গতবছরের (২০২০) ২৬শে মার্চ থেকে ধাপে ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয় আটকে ছিলো দেশের অধিকাংশ কার্যক্রম। সরকারি-বেসরকারী প্রায় প্রতিষ্ঠান কখনো বন্ধ কখনো সীমিত পরিসরে খোলা রেখে কার্যক্রম চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কোনো রকমে অনলাইনে চললেও প্রতিষ্ঠান আর খোলা হয়নি। মাঝ সময়ে গার্মেন্টস-অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়নি।শিক্ষামন্ত্রীর ব্রিফিং আসার সময় হলে অনেক অভিভাবক মনে করেন হয়তো এবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধির সর্বোচ্চ মান্য করে খুলে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কিন্তু তা এখনো পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি।অনলাইনের সে ক্লাস কতটুকু ফলপ্রসূ হচ্ছে তা কিন্তু ভাববার বিষয়। এটার প্রভাব কিন্তু সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টা হচ্ছে প্রভাবের ভালো মন্দ দুইটি দিক রয়েছে৷ আমাদের পরিবেশ কিন্তু মন্দটাকেই বাছাই করে নিয়েছে।তার কারণটা আমরা সহজেই বুঝতে পারি। প্লে-৫ম, ৬ষ্ঠ-১০ম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের (ক,খ,গ) বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে ভাগ করুন। ‘ক’-এসব শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকে। এদের প্রাইভেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর বাড়ীতে পড়াতে হয়। কিন্তু তারপরও তাদের কিছু সময় খেলাধুলার জন্য দেয়া হয়। সেসময় তাদের দুষ্টুমির অবস্থা কেমন তা সবার জানা। করোনাকালীন সময়ে প্রায় সব বন্ধ। তাদেরকে কি বইয়ের সাথে সম্পর্ক করে রাখা সম্ভব? ‘খ’- এসব শিক্ষার্থীরা অনায়াসেই বিপদগামী হতে পারে। কারণ এরা কিছুটা অভিভাবকদের থেকে স্বাধীনতা চায়। সময় পেলে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, মোবাইলের বিভিন্ন ধরণের গেমস পড়াশোনায় অমনোযোগী। কিন্তু এসব কাজকে করোনাকালীন সময় তাদের পুরোধমে সমর্থন করেছে। ‘গ’- এসব শিক্ষার্থীদের সহজেই পড়ার টেবিলে পাওয়া যায়না। এরা ৫০-৮০ভাগ অভিভাবকের থেকে স্বাধীনতা পেয়েই থাকে। জীবন পরিচালনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এটির সঠিক ব্যবহার। করোনাকালীন সময়ে এদের পরীক্ষাই নেয়া হয়নি। এবং এসব শিক্ষার্থীদের মধ্য যারা দরিদ্র পরিবারের তারা অনেকেই কর্মজীবনে পাঁ দিতে বাধ্য হয়েছে। তাদের বর্তমান অবস্থা নাজুম। পরবর্তী স্নাতক/মাস্টার্স, ও অন্যান্য ডিগ্রীধারীদের কথা চিন্তা করুন তাদের কেমন হাল?করোনাকালীন সময়ের শুরু থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্তকে সঠিক মেনেই বলতে হয়। জীবন যেখানে বিপন্ন, শিক্ষা সেখানে কিছুই না। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা যুদ্ধের পর আর করতে হয়নি। এমন পরিস্থিতি থেকে মোটমুটি উত্তরণ সম্ভব হয়েছে৷ যা চলমান।ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারী বেসরকারি দপ্তর গুলো স্বাস্থ্য স্বাস্থ বিধি মেনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। নিস্তব্ধ হওয়া মানুষের জীবনের কিছুটা গতি ফিরে পেয়েছে৷ চলতিমাসেই (জুন) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলের দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ ব্রিফিং করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি ১২ই জুন পর্যন্ত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও ১৩ইজুনেই খোলার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এখানে একটি শর্ত থাকবে সেটা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ৫ভাগের নিচে থাকতে হবে। এতে করে পূণরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সময় পেছানো হতে পারে বলে ধারণা করছেন। কারণ এখনো ৫ভাগের নিচে নামার সম্ভনা নেই। তবে তার কাছাকাছি রয়েছে সংক্রমণের হার।আব্দুল মোমিন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে বসাতে মুশকিল, সেখানে অনেক শিক্ষার্থী আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে মানববন্ধন করছে। আমরা চাই যথার্থ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হোক ।দাসেরহাট আরআর উচ্চ বিদ্যালয়ের মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক শিক্ষক বলেন, এখন যে পরিস্থিতি তাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে সাপ্তাহে ২-৩দিন ক্লাস নেয়া অথবা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর ক্লাস নেয়া যেতে পারে।তা নাহলে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনুজ্জ্বল হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশী হবে।মোশাররফ হোসেন নামের এক অভিভাবকের মন্তব্য, দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঘরে যেমন পড়াশোনা অনেকটা বন্ধ, ঠিক তার বিপরীতে দুষ্টুমী/বাজে আড্ডা অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এবং দেশ মেধাশূণ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দেবে।ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে মানববন্ধন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন গুলো। তারা মানববন্ধন থেকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য বিধি মেনে খুলে দিলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কেন বারবার পেছানো হচ্ছে! অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য করেন কয়েক মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে তেমন সমস্যা হবেনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে জীবনের ঝুঁকিতে ফেলা সম্ভব না।উভয়ের মতামতকে সঠিক হিসেবে বিবেচনা করে আমরা সামনের দিকে এগুতে চাই। অতীতের চেয়ে করোনার সংক্রমণ অনেকটা কমে যাওয়ায় আর পেছনে না তাকিয়ে এবার স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে, সিপ্ট করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হোক।-গণমাধ্যমকর্মী

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.




themesba-zoom1715152249
© All rights reserved © 2022 www.nayapaigam.com
Design & Developed BY Host R Web