বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
এইমাত্র পাওয়া সংবাদ :
Welcome To Our Website...
ব্রেকিং নিউজ :
দাগনভূঞার দুধমুখা নার্সারিতে ফুলের হাসি নির্বাচনে না এসে বিএনপি যে ভুল করেছে তার খেসারত তাদের অনেকদিন দিতে হবে: কাদের ফেনীতে বিএনপি নেতা আলালের মায়ের দাফন সম্পন্ন। বিভিন আচার অনুষ্ঠানে সকলকে রাজনৈতিক বিরোধের উর্দ্ধে থাকার আহবান- নিজাম হাজারী এমপি ছাগলনাইয়া পশ্চিম শিলুয়ায় পোলট্রি খামারি হত্যার রহস্য উদঘাটন: গ্রেপ্তার ২ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ১৯৫ বোতল ইস্কাপ ও ফেন্সিডিলসহ মাদক সম্রাজ্ঞী আঞ্জুয়ারা গ্রেফতার ফেনী বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু জয়িতা কর্ণার উদ্বোধন ও অভিভাবক সমাবেশ ফেনীর ফতেহপুরে পুকুর রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় অভিযোগ ফেনীতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ই-প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতার মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় সিলেটে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত ছাগলনাইয়ায় ফসলি জমির মাটি রক্ষায় কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন

সোনাগাজী সরকারি কলেজ অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও রোধ হচ্ছেনা ফলাফল বিপর্যয়

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৮১ বার পঠিত

ফলাফল অপ্রত্যাশিত,অধ্যক্ষের সাথে কথা হয়েছে। আগামীতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
-উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
করোনাকালীন সময়ের কিছুটা প্রভাব থাকায় ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে।
-উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা
অন্যান্য উপজেলার চেয়ে ফলাফল ভালো হয়, এবার একটু খারাপ হয়েছে।
-অধ্যক্ষ দ্বীনেশ চন্দ্র পাল।

আলমগীর হোসেন
১৯৭২ সালের ১৭ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত সোনাগাজী কলেজ ১৯৮৮সালের ১৩ ডিসেম্বর সরকারি কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে সোনাগাজী সরকারি কলেজ নামে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকে ফেনী জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ব্যাপক অবদান রেখে চলছে।কিন্তু বর্তমানে কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হচ্ছে। যার ফলে বেকারত্ব বাড়ছে।অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের হাজারো স্বপ্ন।সোনাগাজী সরকারি কলেজে নতুন আইসিটি ও বিজ্ঞান ভবন, প্রশাসনিক ভবন,কলা ভবন, বাণিজ্য ভবন, বিজ্ঞান ভবন ও অডিটোরিয়াম সহ অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও রোধ করা যাচ্ছে না।ফলাফল বিপর্যয়।ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়,কলেজে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের। পাশাপাশি অভিভাবকদের নিয়ে রয়েছে অনিহা।লটারীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি, ক্লাসে অনিয়মিত,টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পরও বিভিন্ন মহলের চাপে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া।কলেজে অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী হওয়া পারিবারিক আর্থিক চাহিদা মেটাতে কলেজে অনুপস্থিত থেকে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়ে।রয়েছে বিভাগীয় শিক্ষকের শিক্ষকের অভাব।কলেজ লাইব্রেরিতে বিভিন্ন লিখকের হাজার হাকার বই,জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন জার্নাল ও সাময়িকী থাকলে ও নেই শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার।আইসিটি ল্যাব রয়েছে নামমাত্র।এখানে নেই শিক্ষার্থীদের অনুশীলনের সুযোগ।নেই আইসিটি বিষয়ের শিক্ষকও।সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব ও সায়েন্স ক্লাবের বিষয় উল্লেখ থাকলেও প্রকৃত পক্ষে নেই সক্রিয় কার্যক্রম।বিগত সাল গুলোতেও রয়েছে ফলাফল বিপর্যয়।পূর্বে শিক্ষক সংকট থাকলেও তাদের এখন অনেকটা পদায়ন করা হয়েছে ২৮জন শিক্ষক রয়েছে। নিয়মিত ফলাফল বিপর্যয় রয়েছে চোখে পড়ার মত। ২০১৫ সালে পাশের হার ছিল ২১.৪৬ ভাগ। ক্রমান্বয়ে ২০১৬ সাল থেকে ২০২২ সালের পাশের হার ৪১.৭২%,২৩.৫৯%, ১৮.৩২%, ৪১.৫৫%, ১০০%, ৮৯.৯১% ৪৬.৭৮% যার ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ৭৬৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ২৪৭ জন।পাশের হার ৩২.৬৩%।বিভিন্ন বিভাগে অকৃতকার্যদের তালিকায় বেহাল অবস্থা লক্ষ করা যায়।২০২৩ সালে ৭৬৫ জনের মধ্যে কৃতকার্য ২৪৭জন। পাশের হার ৩২.৬৩ ভাগ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের১৭৮,মানবিক বিভাগে ২৭২,বিজ্ঞান বিভাগে অকৃতকার্য ৬৮জন।২০১৫ সাল ৫০২জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ১০৬জন। পাশের হার ২১.৪৬ভাগ।ব্যবসায় শিক্ষায় ১৩৯, মানবিকে ২৩৫ ও বিজ্ঞান বিভাগে অকৃতকার্য ২২জন।২০১৬ সালে ৪৬০ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ১৮৯। পাশের হার ৪১.৭২ভাগ।জিপিএ ফাইভ একজন।ব্যবসায় শিক্ষার ১৩০, মানবিকে ১৩৮ ও বিজ্ঞান বিভাগে অকৃতকার্য ৩ জন। ২০১৭ সালে ৪০০ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ৯২জন। পাশের হার ২৩.৫৯ভাগ।ব্যবসায় শিক্ষায় ১১৭, মানবিকে ১৬৭ ও বিজ্ঞান বিভাগে অকৃতকার্য ২৪ জন। ২০১৮ সালে ৩২৬ জন মধ্যে উত্তীর্ণ ৫৯ জন।পাশের হার ১৮.৩২ভাগ।ব্যবসায় শিক্ষায় ৯২ জন, মানবিকে ১৫৩ জন, বিজ্ঞান বিভাগের অকৃতকার্য ২২জন।২০১৯ সালে ৩৬১জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ১৫০ জন।পাশের হার ৪১.৫৫ভাগ।ব্যবসায় শিক্ষায় ৭২,মানবিকে ১২১ বিজ্ঞান বিভাগে অকৃতকার্য ১৮ জন।২০২০ সালে ৩২০ জনের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৩২০ জন।শতভাগ ছিলো পাশের হার জিপিএ ফাইভ ৯ জন।২০২১ সালে ৮১৪ জনের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৭০৪ জন।পাশের হার ৮৯.৯১ ভাগ জিপিএ ফাইভ ১জন। ব্যবসায় শিক্ষায় ৭ জন।মানবিকে ২৭ জন।বিজ্ঞান বিভাগে অকৃতকার্য ১৬ জন) ২০২২ সালে ৪২৬ জনের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১৯৬ জন।পাশের হার ৪৬.৭৮% জিপিএ ফাইভ ৪জন।ব্যবসায় শিক্ষায় ৮১ জন।মানবিকে ১৩৭জন। বিজ্ঞান বিভাগে অকৃতকার্য ১২ জন।২০২৩সালের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী বায়েজীদ হোসেন বলেন,আমরা নিয়মিত ক্লাস করেছি।ফলাফলও ভালো করেছি।যারা নিয়মিত ক্লাস করেনি।কলেজ শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবু তৈয়ব বাবুল জানান,মূলত কলেজে নিয়মিত ক্লাসের প্রতি গুরুত্ব কম থাকায় ফলাফল বিপর্যয়।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ক্লাসের প্রতি গুরুত্ব দিলে ফলাফল অনেকটা পরিবর্তন হবে।কলেজের বাংলা প্রভাষক মাহবুবুল আলম বলেন, কলেজের কার্যক্রমকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রশাসনিক ও একাডেমিক। প্রশাসনিক কাজ করতে কিছু শিক্ষক ক্লাসে তেমন সময় দিতে পারেন না।আবার অনেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে থাকেন।অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাই ঠিক মত ক্লাস করেনা।ফরম ফিলাপের জন্য বিভিন্ন তদবীর আসে।সোনাগাজী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর দ্বীনেশ চন্দ্র পাল বলেন, আমি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যোগদান করেছি। এরপরও চেষ্টা করছি অতীতের ফলাফল থেকে ভালো করতে।কিন্তু এখানে ভালো শিক্ষার্থী ভর্তিই হয়না।যারা হয়।তাদের অভিভাবকও সচেতন না আবার নিয়মিত ক্লাসও করেনা। যার কারণ ফলাফল বিপর্যয়।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল আমিন বলেন, করোনাকালীন সময়ের প্রভাব রয়েছে।পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়হীনতা।লটারীর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি সহ বিভিন্ন কারণে সোনাগাজী সরকারী কলেজে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, উপজেলার একমাত্র সরকারী কলেজের ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে অধ্যক্ষের সাথে কথা হয়েছে।এটি অপ্রত্যাশিত।অভিভাবকদের উদাসীনতা ও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত হওয়ার বিষয়টিই মূল।আগামীতে এটি থেকে রক্ষায় অভিভাবক সমাবেশ সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো জনপ্রিয় সংবাদ সমূহ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত- 2024 এ ওয়েব সাইটে প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Design & Development By Hostitbd.Com